Image description

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও, এখন নানা চাপে দেশের অর্থনীতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা আর বিনিয়োগ স্থবিরতায় তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। সোমবার পিআরআই কার্যালয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক খাতে সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন ছাড়া অর্থনীতির ঘুড়ে দাঁড়ানো কঠিন।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং জ্বালানি সংকট দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দেশের অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের এমন চিত্র।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স এখনও অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তবে রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণ না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে এলেও তৈরি হচ্ছে না পর্যাপ্ত মানসম্মত চাকরি।

বিশ্বব্যাংক বলছে, জটিল নিয়মনীতি, ঋণের উচ্চ সুদ, দুর্বল আর্থিক খাত, জ্বালানি সমস্যা এবং প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসা পরিবেশের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের এখনও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মধ্যম আয়ের দেশের লক্ষ্য অর্জনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিনিয়োগ বাড়ানো, মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি এবং দ্রুত অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. ধ্রুব শর্মা বলেন, ‘রাজনৈতিক এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের জন্য বড় বাধা, এই অনিশ্চয়তাগুলো থাকলে কোনো ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করবেন না। এছাড়া ব্যবসায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ তো রয়েছেই।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশে মূল্যস্ফীতি, কম রাজস্ব সংগ্রহ, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং অর্থনীতির বাহ্যিক খাতের মতো চ্যালেঞ্জগুলো আরও বাড়িয়েছে।