Image description

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, যে দলের (আওয়ামী লীগ) প্রধান দেশের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে মাঠে ফেলে পালিয়ে যান, তাদের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। আমাদের নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতভেদ থাকতে পারে, তবে আওয়ামী লীগের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। এ দেশে আর কখনও আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। 

এনসিপি’র উদ্যোগে ‘চলো কুমিল্লা, গড়ি নতুন বাংলাদেশ’- স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লায় শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বিশেষ পদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে আজ সোমবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কানাডার বেগম পাড়ায় আমাদের কোনো বাড়ি বা গাড়ি নেই। আমাদের মুরব্বিদের অনেকেরই সেখানে বাড়ি-গাড়ি রয়েছে, তাদের সন্তানরা বিদেশে লেখাপড়া করে এবং তারা নিজেরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। এ দেশের সাধারণ মানুষ যেখানে দেশে চিকিৎসা নেয়, সেখানে কিছু ‘অসাধারণ’ মানুষ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নেন। আমাদের সন্তানরা দেশে পড়ালেখা করলেও মুরব্বিদের সন্তানরা বিদেশে পড়ে। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। 
 
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাসনাত বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখার অপরাধে মানুষকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল, আর বর্তমান সরকারের সময়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখলে গ্রেপ্তার হতে হচ্ছে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না। আমাদের দেশটাকে আরও পাল্টাতে হবে এবং পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এখন বিরোধী দলে আছি। তাই অতিউৎসাহী কিছু পুলিশ সদস্য পদোন্নতি পাওয়ার আশায় আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর বা হয়রানি করবে এটা আসলে পুলিশের একক দোষ না। কারণ আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরাই পুলিশ প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন, যাতে তাদের কথা শুনে বিরোধী দলকে হয়রানি করা যায়। 

ভারত সীমান্তের চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা মাদক ব্যবসা করে, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। তারা যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। পুলিশ আর মাদক ব্যবসায়ী কখনও একসঙ্গে চলতে পারে না। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, যারা মাদক কারবারে জড়িত, তারা থানায় এসে দালালিও করে। মাদক নির্মূলে পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিকায়ন করে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।