Image description

বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রভাবশালী নেতা—চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেইজিংয়ে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। 

বুধবার (২০ মে) চীনের গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ পুতিনকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং সামরিক গার্ড অফ অনারের মাধ্যমে স্বাগত জানান শি জিনপিং। দুই দেশের বন্ধুত্বের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনের এই সফরকে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের শুরুতে পুতিন চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার বর্তমান সম্পর্ককে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “প্রতিকূল বাহ্যিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শক্তিশালী গতিতে এগিয়ে চলছে।” 

পুতিন আরও উল্লেখ করেন যে, বেইজিং ও মস্কো একে অপরের ‘সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য রক্ষাসহ মূল স্বার্থের’ বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।

পুতিনের সঙ্গে রুশ ব্যবসায়ী ও সরকারি নেতাদের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল রয়েছে এবং ক্রেমলিন ঘোষণা করেছে যে দুই নেতা অর্থনীতি ও পর্যটন থেকে শুরু করে শিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে প্রায় ৪০টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। 

তবে বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের জন্য এবারের আলোচনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’। 

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপীয় বাজারে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাশিয়ার রাজস্বে যে টান পড়েছে, তা পুষিয়ে নিতে চীনের বাজারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে মস্কো।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকে শি জিনপিং গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয়গুলো পুতিনকে অবহিত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

পুতিন তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, বেইজিং ও মস্কোর এই ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে কোনো জোট নয়। বরং এটি বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘স্থিতিশীল ভূমিকা’ পালন করছে। 

তিনি বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে জোট বাঁধছি না, বরং শান্তি ও সার্বজনীন সমৃদ্ধির জন্য কাজ করছি।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে পদার্পণ করার এই সময়ে পুতিনের চীন সফর বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ সত্ত্বেও চীন-রাশিয়া মৈত্রী আরও গভীর হচ্ছে।