Image description

নরওয়ের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘আফতেনপোস্তেনে’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে একটি কার্টুন প্রকাশিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কার্টুনটিকে বর্ণবাদী, অবমাননাকর এবং ঔপনিবেশিক যুগের পুরোনো স্টেরিওটাইপের পুনরাবৃত্তি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রকাশিত কার্টুনে দেখা যায়, মোদিকে একজন সাপুড়ে হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে এবং তার হাতে সাপের আকৃতির একটি জ্বালানি পাম্পের পাইপ দেখানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিকে ইঙ্গিত করেই এ ব্যঙ্গচিত্র আঁকা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে তাকে ‘চতুর এবং কিছুটা বিরক্তিকর’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে ভারত ও ভারতের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে আখ্যা দেন।  

এ বিষয়ে একজন মন্তব্য করেন, ‘নরওয়ের তথাকথিত মুক্ত গণমাধ্যম এখনো ঊনবিংশ শতাব্দীর ঔপনিবেশিক কার্টুনে আটকে আছে। মোদিকে সাপুড়ে হিসেবে দেখানো ভারতের উত্থানকে হজম করতে না পারারই বহিঃপ্রকাশ।’

সমালোচকদের অনেকে বলেন, এই কার্টুন প্রধানমন্ত্রী মোদির ২০১৪ সালের একটি বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। সে সময় নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে দেওয়া ভাষণে মোদি বলেছিলেন, একসময় বিশ্ব ভারতকে ‘সাপুড়ের দেশ’ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এখন ভারত ‘মাউস চার্মার’ অর্থাৎ প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল শক্তিধর দেশে পরিণত হয়েছে।

তবে সবাই ভাইরাল হওয়া ওই কার্টুনের বিরোধিতা করেননি। কেউ কেউ ভারতীয় গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, বিদেশি সংবাদমাধ্যম সরকারকে কঠিন প্রশ্ন করলেই সেটিকে বর্ণবাদ বলে আখ্যা দেওয়া ঠিক নয়।

সমালোচনা করে একজন লেখেন, একটি নরওয়েজিয়ান কার্টুন দেখে যদি সাংবাদিকরা ‘বর্ণবাদ’ বলে চিৎকার করেন, তাহলে তারা নিজেদের সাংবাদিক বলতে পারেন না। সরকারের কাছে কঠিন প্রশ্ন করার দায়িত্ব ছিল আপনাদের, যা আপনারা করেননি।

এই বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি আরেক নরওয়েজিয়ান সাংবাদিক হেলে লিং প্রধানমন্ত্রী মোদির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন নেওয়া না নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে এক যৌথ মিডিয়া উপস্থিতিতে এ প্রশ্ন ওঠে।

এর জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক সিবি জর্জ সংবাদম মাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, ‘অনেকেরই ভারতের ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণা নেই। তারা কিছু এনজিওর এক-দুটি প্রতিবেদন পড়ে প্রশ্ন করতে চলে আসেন। ভারতে প্রতিদিন অসংখ্য সংবাদ তৈরি হয়। শুধু দিল্লিতেই প্রায় ২০০ টিভি চ্যানেল রয়েছে— ইংরেজি, হিন্দি ও অন্যান্য ভাষায়।