Image description

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় মাদকাসক্ত ভাতিজার বঁটির আঘাতে জহুরা বেগম (৬০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এসময় সোহেল মিয়া (৩০) নামের ওই যুবকের হামলায় তার মা আনোয়ারা বেগম ও চাচি জুলেখা বেগম গুরুতর আহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের বাজেতেলকুপি চর নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত জহুরা বেগম ওই গ্রামের মৃত কাবিল শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত সোহেল মিয়া একই গ্রামের মৃত সামু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জহুরা বেগম স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে সোহেল হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ঘর থেকে বঁটি নিয়ে প্রথমে তার মা আনোয়ারা বেগমকে কোপাতে শুরু করেন। মায়ের চিৎকারে চাচি জুলেখা বেগম এগিয়ে এলে সোহেল তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। একপর্যায়ে ফুফু জহুরা বেগম তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসলে সোহেল তার পেটে সজোরে আঘাত করেন এবং কোপ দিয়ে তার এক হাত শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই জহুরা বেগমের মৃত্যু হয়।

গুরুতর আহত আনোয়ারা ও জুলেখাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সোহেলকে হাতেনাতে ধরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।

সোহেলের বড় ভাই ফুল মিয়া জানান, গত কয়েকদিন ধরে সোহেল মানসিক ভারসাম্যহীনের মতো আচরণ করছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠেই সে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায়। সে তার মায়ের মাথায় এবং চাচির নাক-মুখ ও সারা শরীরে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে। ফুফুর পেটে কোপ দেওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ফুলছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত সোহেলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি সোহেল মাদকাসক্ত। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর