Image description

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান। রোববার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন এবং প্রমাণ হিসেবে হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন।

রাশেদ খান তার পোস্টে অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে যখন ছাত্র-জনতা একদফা দাবিতে অনড় ছিল, তখন হাসনাত আব্দুল্লাহ আন্দোলনের মোড় ঘোরাতে চেয়েছিলেন। তিনি লেখেন, ‘হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে হাসনাত অন্য সমন্বয়কদের সাথে হাতাহাতি পর্যন্ত করেছিলেন।’

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান ডিবি কার্যালয়ে থাকার সময়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘নাহিদ-আসিফ ডিবিতে মার খেতো, আর হাসনাত-সারজিস ডিবি কার্যালয়ের পুকুরপাড়ে জুস খেতো।’ কেন তাদের বিশেষ আপ্যায়ন করা হতো, তার প্রমাণ প্রকাশিত অডিওতে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রকাশিত অডিওতে হাসনাত আব্দুল্লাহকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কখনোই কনফ্রন্টেশনে (সংঘাত) যেতে চাই নাই। আমার ফোকাস ছিল কোটা সংস্কার, আমি কোটা সংস্কারেই থাকতে চেয়েছি। এখন সমন্বয়কদের মধ্যে যদি কেউ আগ বাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, তার দায়ভার তো আমি নেব না। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এটা নিয়ে হাতাহাতি হওয়া বাকি ছিল শুধু।’

রাশেদ খান আরও দাবি করেন, হাসনাত ও সারজিস মূলত আওয়ামী লীগের পক্ষের লোক। তাদের আন্দোলনের পূর্ববর্তী ‘দুর্বলতা’ ঢাকতেই তারা এখন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের মতো গরম বক্তব্য দিচ্ছেন। বিএনপি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন, সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ বেশি কথা বললে এই অডিও যেন বাজানো হয়।

পোস্টে তিনি একজন উপদেষ্টার বরাত দিয়ে আরও লেখেন, ‘৭ আগস্ট রাত ২টার দিকে একজন উপদেষ্টা বলেছিলেন, হাসনাত-সারজিস জাতির সাথে বেইমানি করেছে।’ এছাড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের লেখা বইয়ের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, সেই বইয়ে গণঅভ্যুত্থানের ইতিবাচক দিক থাকলেও হাসনাত-সারজিসের ‘বেইমানির ইতিহাস’ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী সংস্করণে এই সত্যগুলো উঠে আসবে, অন্যথায় ২০২৪-এর ইতিহাসও ‘বানোয়াট’ হিসেবেই থেকে যাবে।

এই বিস্ফোরক পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই