শত শত বছর ধরে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ব্যর্থ হওয়া এবং এই অমানবিক প্রথাকে এক সময় বৈধতা দেওয়ার জন্য রোমান ক্যাথলিক চার্চের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ। সোমবার (২৫ মে) তাঁর প্রকাশিত প্রথম এনসাইক্লিক (পোপের বিশেষ পত্র) ‘ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটাস’-এ তিনি এই ঘোষণা দেন। বার্তা সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হলি সি তথা ভ্যাটিকান একসময় দাসপ্রথাকে যে সমর্থন দিয়েছিল এবং দীর্ঘকাল এই নিষ্ঠুর প্রথা দমনে চার্চের যে নিষ্ক্রিয়তা ছিল, তাকে ‘খ্রিস্টীয় স্মৃতির ক্ষত’ বলে অভিহিত করেছেন পোপ। তিনি বলেন, “সৃষ্টিকর্তার অসীম ভালোবাসার পাত্র হলেন মানুষ, যাদের মর্যাদাও অনেক উঁচুতে। দাসপ্রথার মাধ্যমে মানুষকে যে অবর্ণনীয় কষ্ট ও লাঞ্ছনা দেওয়া হয়েছে, তা ভাবলে ব্যথিত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। এই ঐতিহাসিক অপরাধের জন্য আমি চার্চের পক্ষ থেকে বিনম্রভাবে ক্ষমা চাইছি।”
পোপ লিও চতুর্দশ ইতিহাসের প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ। তাঁর এই ক্ষমা প্রার্থনার পেছনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইতিহাসেরও একটি বড় প্রভাব রয়েছে। জানা গেছে, তাঁর বংশলতিকায় যেমন ক্রীতদাস মালিকদের নাম রয়েছে, তেমনি তিনি নিজে ক্রীতদাসের উত্তরসূরি। তাঁর অন্তত ১৭ জন আমেরিকান পূর্বপুরুষ কৃষ্ণাঙ্গ বা মিশ্র জাতির ছিলেন। নিজের এই বিচিত্র ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকেই তিনি চার্চের দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিশ্বদরবারে সামনে এনেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পোপের এই অকপট স্বীকারোক্তি ও ক্ষমা প্রার্থনা বিশ্বজুড়ে রোমান ক্যাথলিক চার্চের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments