ঈদ মানেই উৎসবের আমেজ আর মুখরোচক খাবারের ছড়াছড়ি। তবে এই আনন্দ যেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে মাংসের হরেক পদ আর মিষ্টির ভিড়ে ওজন বেড়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা থাকে অনেকের। কিছু ছোট কৌশল অবলম্বন করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখেই উপভোগ করা যায় ঈদের ভোজন।
খাবারের থালায় অনুপাত ঠিক রাখুন: পুষ্টিবিদদের মতে, আপনার পাতটি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে ৩০ শতাংশ আমিষ, ৩০ শতাংশ শর্করা, ৩০ শতাংশ সবজি এবং মাত্র ১০ শতাংশ চর্বি থাকে। আমরা সাধারণত ভাতের পরিমাণ বেশি রাখি, কিন্তু সুস্থ থাকতে হলে মাংসের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে সালাদ বা সবজি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
মাংস খাওয়ার সঠিক নিয়ম: গরুর মাংস প্রোটিন, জিংক এবং আয়রনের চমৎকার উৎস হলেও তা খেতে হবে পরিমিত। চর্বিযুক্ত মাংস এড়িয়ে চর্বিহীন লাল মাংস (Lean meat) বেছে নিন। মাংসের ঝোল এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ। যাদের কোলেস্টেরল বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা আছে, তারা মগজ, ভুঁড়ি বা নেহারি থেকে দূরে থাকুন।
মিষ্টি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন: ঈদের সেমাই বা পায়েসে প্রচুর চিনি থাকে যা রক্তে দ্রুত মিশে ওজন বাড়ায়। চিনির বদলে বিকল্প মিষ্টি ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া তৃষ্ণা মেটাতে কোল্ড ড্রিংকস বা সফট ড্রিংকস এড়িয়ে প্রচুর পানি বা লেবুর শরবত পান করুন।
সময়মতো আহার ও শরীরচর্চা: ঈদের দিন দাওয়াত এড়ানো কঠিন, তবে চেষ্টা করুন প্রতিবার অল্প পরিমাণে খেতে। রাতের খাবার যত দ্রুত সম্ভব খেয়ে ফেলা ভালো এবং খাওয়ার অন্তত ১০-১৫ মিনিট পর হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ঘাম ঝরিয়ে ব্যায়াম করলে অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরিয়ে ফেলা সম্ভব।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সতর্কতা: অতিরিক্ত ওজন কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট করে না, বরং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার এবং হাড়ের ব্যথার মতো জটিল রোগ ডেকে আনে। তাই আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। একবারেই অনেক বেশি না খেয়ে সারা দিনে অল্প অল্প করে কয়েকবারে খেলে শরীর সুস্থ থাকবে এবং ঈদ আনন্দ হবে নিরবচ্ছিন্ন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments