Image description

রেকর্ড পরিমাণ দাম বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল বুধবার (৩ জুন) বিকেলে বিদ্যুতের নতুন মূল্য ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, এবার পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে (খুচরা) সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। নতুন এই বর্ধিত দর গত ১ জুন থেকেই কার্যকর ধরা হবে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বুধবার আদেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঠিক কী পরিমাণ দাম বাড়ছে, সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, এবার সেচ, শিল্প, এমনকি লাইফলাইন গ্রাহকসহ সব ধরনের গ্রাহকের জন্যই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

এবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি দুই দিক থেকে নজিরবিহীন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। প্রথমত, অতীতে গ্রাহক পর্যায়ে কখনো এক লাফে ১৫-২০ শতাংশ দাম বাড়ানোর নজির নেই। এর আগে ২০১১ সালে সর্বোচ্চ ১৪.১৬ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি শেষ হওয়ার পর মাত্র ৪টি সরকারি কর্মদিবসের মধ্যে এই আদেশ দেওয়ার বিষয়টিও একটি বড় রেকর্ড।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) তাদের আবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ এখন ১৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অথচ বর্তমান দামে বিক্রি করলে সরকারকে বছরে প্রায় ৬৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা ঘাটতি গুনতে হবে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের উচ্চমূল্যকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখিয়েছে বিপিডিবি।

অন্যদিকে, ডেসকো, ডিপিডিসি এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর মতো বিতরণ কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে, পাইকারি দাম যে হারে বাড়ছে, খুচরা দাম সে হারে না বাড়ায় তারা গত কয়েক অর্থবছর ধরে কয়েক হাজার কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড জানিয়েছে, তাদের ৮০টি সমিতি গত এক বছরে প্রায় ১ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন আকাশচুম্বী, তখন বিদ্যুতের এই বিশাল মূল্যবৃদ্ধি শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যয়—সব ক্ষেত্রে এক বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মানবকণ্ঠ/আরআই