অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর সংযোগ সড়কে একাধিক যানবাহন বিকল হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর পূর্ব পাশের টোল প্লাজা থেকে পৌলি পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
শুক্রবার (৫ মে) দিবাগত রাত থেকে এই যানজটের সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উত্তরবঙ্গগামী ও ঢাকাগামী কয়েক হাজার যাত্রী।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত) সেতু দিয়ে মোট ৪০ হাজার ৫৮০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মাধ্যমে মোট ৩ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। যার মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী: ১৫ হাজার ৪৪৮টি যানবাহন (টোল আদায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা)। ঢাকাগামী: ২৫ হাজার ১৩২টি যানবাহন (টোল আদায় ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫০ টাকা)।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, "অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের পাশাপাশি রাতে সেতুর ওপর এবং সংযোগ সড়কে কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। বিকল হওয়া যানগুলো সরাতে সময় লাগার কারণে যানজট দীর্ঘ হয়েছে। বর্তমানে সেতুর দুই পাড়ে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা চারটি বুথ রয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।"
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জুয়েল মিয়া জানান, মহাসড়কে যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপ থাকলেও পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যানজট নিরসন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




Comments