বিএনপির রাজপথের আন্দোলন, দীর্ঘদিনের ত্যাগ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে মো. সোহাগ ভূঁইয়ার নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। তিনি বর্তমানে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সোহাগ ভূঁইয়ার রাজনীতির শুরু রাজধানীর শাহজাহানপুর থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি এই শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে ৭৬টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়। আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন ‘নির্যাতিত ও ত্যাগী’ নেতা হিসেবে পরিচিত।
২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রতিটি সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে সোহাগ ভূঁইয়া সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর শাহবাগ, খিলগাঁও ও রামপুরা এলাকায় সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধও হয়েছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির বর্তমান নীতি অনুযায়ী, যারা দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথে সক্রিয় এবং জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাদের নেতৃত্বে আনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ছাত্রদল থেকে অভিজ্ঞ নেতাদের যুবদলের নেতৃত্বে নিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় সোহাগ ভূঁইয়া অন্যতম অগ্রাধিকার পাচ্ছেন।
নিজের প্রার্থিতা বা আলোচনা প্রসঙ্গে সোহাগ ভূঁইয়া বলেন, তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর আস্থাশীল। দল তাকে যেখানে যোগ্য মনে করবে, সেখানেই তিনি নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।
যদিও সাধারণ সম্পাদক পদে আরও কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতার নাম আলোচনায় রয়েছে, তবে রাজপথের সক্রিয়তা ও ত্যাগের বিবেচনায় সোহাগ ভূঁইয়াকে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে।




Comments