Image description

প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১০ জুন) বিকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে দেওয়া তাঁর সরকারের কড়া নির্দেশনাসমূহ সংসদে তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাঠপর্যায়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের জনস্বার্থে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো:

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: সরকারি প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অনুসরণ করতে হবে এবং দুর্নীতি রোধে প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জটিলতা পরিহার ও দ্রুত সিদ্ধান্ত: অপ্রয়োজনীয় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে সাধারণ মানুষের স্বার্থে দ্রুত এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

মেধার ভিত্তিতে পদায়ন: সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদবির বা স্বজনপ্রীতি চলবে না; এখানে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

হয়রানিমুক্ত সরকারি সেবা: সরকারি সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত, বিলম্বমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটাল রূপান্তর: সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে হবে এবং প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ: মাঠপর্যায়ে আইন লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় কোনো প্রকার আপস না করে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালন করলে দেশের সাধারণ মানুষ অতি দ্রুত সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের সুফল পাবেন।

মানবকন্ঠ/আরআই