যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তিচুক্তি: অবরুদ্ধ সম্পদের ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের ঘোষণা
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার পর যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিপক্ষীয় বৈরিতার অবসান ঘটাতে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তিটি আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার পর শুরু হতে যাওয়া ৬০ দিনের আলোচনাকালে ইরানের অবরুদ্ধ প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করা হবে। স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনা শুরুর আগেই মোট তহবিলের অর্ধেক অর্থাৎ ১২ বিলিয়ন ডলার ইরানকে প্রদান করতে হবে।
এর আগে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রথমে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর খবর জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের কর্মকর্তারাও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত করার অনুমতি দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
নিজের বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলতে দাও।”
অন্যদিকে, ইরানের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments