Image description

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ১১ বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার রানা হিজল গ্রামে সংঘটিত এই পাশবিক ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক ও তার বাবার বিরুদ্ধে মামলাটি গ্রহণ করেছে পুলিশ। এদিকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলার আসামিরা হলেন—রানা হিজল গ্রামের মুন্না (২৫) ও তার বাবা শহিদ আলম ওরফে ছোট্টন (৫৮)। ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় তারা গ্রামের এক তালুকদারের বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শিশুটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। এ সময় ওত পেতে থাকা মুন্না শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে হাত-পা বেঁধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ধারালো ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

ভয়ে শিশুটি প্রথমে চুপ থাকলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক যন্ত্রণা অসহ্য হওয়ায় গত রবিবার তার ফুফুকে বিষয়টি খুলে বলে। পরে স্বজনরা অভিযুক্ত মুন্নার বাবার কাছে বিচার চাইতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিষয়টি জানাজানি করলে বা আইনের আশ্রয় নিলে পুরো পরিবারকে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন।

সোমবার (১৫ জুন) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিরা বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর