ধোবাউড়ায় শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা, আদালতে ২ আসামির স্বীকারোক্তি
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ৪ বছর ৭ মাস বয়সী শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন যুবকের মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহের আদালতে হাজির করা হলে আসামি আরিফ হোসেন ও রাকিব হাসান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেন।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় শিশু নিছামনি। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে কংস নদীর একটি বাঁকে তার মরদেহ পাওয়া যায়। দাফনের প্রস্তুতির সময় শিশুটির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণ দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং অভিযানে নামে।
এ ঘটনায় পুলিশ টাঙ্গাহাটি গ্রামের মারুফ হোসেন (২০), আরিফ হোসেন (১৮) ও রাকিব হাসানকে গ্রেপ্তার করে। হালুয়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিজানুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, কদম ফুল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চারজন মিলে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং পরে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে দেয়।
ঘটনার পর ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া এবং পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম ভুক্তভোগীর বাড়ি পরিদর্শন করে দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দেন। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার জানান, ঘটনায় মোট চারজন জড়িত ছিল। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নিহত শিশুর বাড়িতে গিয়ে শোকাতপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার দাবি জানান। তিনি জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বিষয়টি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছেন।
এই পৈশাচিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। অন্যদিকে, আইনজীবীরা এই ঘৃণ্য অপরাধীদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments