কপোতাক্ষ নদে ড্রেজারে বালু উত্তোলন, ঘের ভরাট করে ইটভাটার নীলনকশা!
খুলনার পাইকগাছায় মরণাপন্ন কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হয়েছে। প্রভাবশালী একটি চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু তুলে নদের পাশের বিশাল একটি গভীর ঘের ভরাট করছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই জলাধারটি ভরাট করে সেখানে একটি নতুন ইটভাটা স্থাপনের নীলনকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিববাটি ব্রিজ থেকে কাটাখালী প্রধান সড়কের মাঠাম গেট সংলগ্ন এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ওপর এই অবৈধ ড্রেজার বসানো হয়েছে। এক সময়ের খরস্রোতা কপোতাক্ষ এখন নাব্যতা হারিয়ে চরম সংকুচিত। নদের এই নাজুক দশার সুযোগ নিয়ে বালু দস্যুরা নদের বুক ক্ষতবিক্ষত করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদ থেকে উত্তোলিত বালু পাইপলাইনের মাধ্যমে পাশের প্রায় ৪-৫ একর আয়তনের একটি গভীর ঘেরে ফেলা হচ্ছে। একসময় মাছ চাষ ও প্রাকৃতিক পানি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হওয়া এই জলাধারটি এখন বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্পূর্ণ ঘেরটি ভরাট করে সেখানে একটি অবৈধ ইটভাটা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, কপোতাক্ষের বর্তমান অবস্থায় এমন বালু উত্তোলন এবং জলাশয় ভরাট পুরো এলাকার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হওয়া, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার মতো মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
নদী ও পরিবেশের এমন প্রকাশ্য ক্ষতিসাধন সত্ত্বেও প্রভাবশালী চক্রের এই দুঃসাহস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা কপোতাক্ষের শেষ চিহ্নটুকু টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, "কপোতাক্ষ নদের স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করে বা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং খুব দ্রুতই সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments