বলিউড অভিনেত্রী ও পরিবেশকর্মী দিয়া মির্জা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকটের পেছনে পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর বড় ভূমিকা রয়েছে। সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় দেওয়া তার মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিয়া মির্জা বলেন, পৃথিবীতে বর্তমানে যে পরিবেশগত সংকট ও বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে, তার জন্য পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা ও ক্ষমতার কাঠামো দায়ী। তবে কোনো নির্দিষ্ট পুরুষকে দায়ী করার জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি সামাজিক ব্যবস্থার সমালোচনা করতেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানান।
বিতর্কের মুখে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে অভিনেত্রী বলেন, তিনি তার বক্তব্যে অনড় রয়েছেন। তার ভাষ্য, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে ক্ষমতা সীমিত কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। ফলে প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার পরিবর্তে সম্পদ আহরণ ও শোষণকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
দিয়া মির্জার মতে, পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীদের যেভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ভোগের বস্তু হিসেবে দেখা হয়, প্রকৃতিকেও অনেক ক্ষেত্রে একইভাবে সম্পদ ও পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বন, নদী, সমুদ্র এবং পরিবেশের অন্যান্য উপাদানকে সংরক্ষণের পরিবর্তে ব্যবহারের বস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতাই বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি সংরক্ষণ ও নারীর অধিকার নিয়ে যারা কথা বলেন, তাদের কণ্ঠস্বরকে দুর্বল করার প্রবণতাও এই ক্ষমতা কাঠামোর অংশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে প্রান্তিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর নারীদের ওপর। পানি সংকট, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি এবং জীবিকার ক্ষতির মতো সমস্যার মুখোমুখি তাদেরই বেশি হতে হয়।
অভিনেত্রীর দাবি, পরিবেশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম। তাই টেকসই ও স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গড়তে হলে সমতা, সহানুভূতি এবং জীবনের প্রতি সম্মানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।
দিয়া মির্জার এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়ের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন, আবার কেউ এ মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন।




Comments