ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন এক মহাকাব্য লিখলেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ১৮ বছর পুরনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে বিশ্বমঞ্চে নিজের রাজকীয় আগমনী বার্তা দিলেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
রোববার (২১ জুন) আটলান্টা স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করে মেসির চেয়েও কম বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম গোলের দেখা পাওয়ার কীর্তি গড়লেন তিনি।
১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করলেন ইয়ামাল। অন্যদিকে, ২০০৬ বিশ্বকাপে যখন মেসি তাঁর প্রথম গোলটি করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। অর্থাৎ মেসির চেয়ে ঠিক ১৪ দিন কম বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড। একইসঙ্গে ব্রাজিলের মহানায়ক পেলের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য রেকর্ডও এখন ইয়ামালের দখলে।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইয়ামালের রেকর্ড গড়া গোলের ওপর ভর করে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন। আসরের প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র করে হোঁচট খেলেও, দ্বিতীয় ম্যাচেই ইয়ামালদের হাত ধরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ১১তম মিনিটেই স্পেনের হয়ে গোল উৎসবের সূচনা করেন এই কিশোর তারকা।
পরিসংখ্যান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’ (Opta) অনুযায়ী, লামিন ইয়ামাল বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার যিনি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সে ফিফা বিশ্বকাপ এবং উয়েফা ইউরো—উভয় বড় টুর্নামেন্টে গোল করার অনন্য নজির স্থাপন করলেন। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে গোল করেছিলেন। পেলের সেই কীর্তির দীর্ঘ ৬৮ বছর পর ইয়ামালই হলেন প্রথম অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপের ম্যাচে দেশের হয়ে গোল করলেন।
স্পেন জাতীয় দলে ইয়ামাল কতটা অপরিহার্য, তা ফুটে ওঠে আরেকটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যানে। ইয়ামাল শুরুর একাদশে থাকা গত ২১টি ম্যাচের একটিতেও হারেনি স্পেন; যার মধ্যে ১৫টিতেই জয় এবং ৬টি ড্র। এই ২১ ম্যাচে স্পেনের করা ৬০টি গোলের মধ্যে সরাসরি ১৬টি গোলেই (৫ গোল ও ১১ অ্যাসিস্ট) অবদান রেখেছেন এই বিস্ময়বালক।
তথ্যসূত্র: দ্য স্টেটসম্যান।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments