মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় স্কুলছাত্রী মারিয়া আক্তার (১৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি ও দুই শিক্ষকসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতে হাজির করার পর তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান আসামি আলিফের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— আলিফ (১৬), মাসুদ (৩৫), সুজন (৩০), রাসেল (৩০), আলিফের মা রুমা (৪৫), বোন মিম (২২), সাহরাইল স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম (৫৯) এবং আইসিটি শিক্ষক ইয়াকুব মোল্লা (২৯)।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার জার্মিত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর কবরস্থানের পাশের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে মারিয়ার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মারিয়া সায়েস্তা ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের মেয়ে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময় একটি শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ হোসেনের সঙ্গে মারিয়ার আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাটি ধরা পড়লে উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেয়।
একই দিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যায় মারিয়া। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে সিংগাইর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর স্থানীয়রা চন্দননগর এলাকার একটি ঝোপের মধ্যে অর্ধগলিত ও খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহটি মারিয়ার বলে শনাক্ত করে।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ৫ থেকে ৬ দিন আগেই মারিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠান। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হোক।




Comments