Image description

যশোর রেল স্টেশনের ইয়ার্ড ও প্রধান রেললাইনের নিচে থাকা ব্রিটিশ আমলের শতবর্ষী লোহার স্লিপারগুলো (পাসতি) বর্তমানে চরম জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যুগের পর যুগ সংস্কার ও আধুনিকায়নের ছোঁয়া না পাওয়ায় ঐতিহ্যের এসব লোহার স্লিপারে মারাত্মকভাবে মরচে ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় স্লিপারের মাঝখান থেকে লোহার অংশ খসে পড়ে বড় বড় ফাটল ও বিপজ্জনক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু স্লিপারের ভেতরের অংশ সম্পূর্ণ ফাঁপা হয়ে গেছে, যা ট্রেনের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচলের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে যশোর রেল স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রেলের মূল পাত ধরে রাখার লোহার স্লিপারগুলোর এখন কঙ্কালসার রূপ উন্মোচিত হয়েছে। অথচ এই ঝুঁকিপূর্ণ ও ভেঙে পড়া কাঠামোর ওপর দিয়েই প্রতিদিন অবলীলায় ছুটে চলছে শত শত টন ওজনের যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ১৮৮৪ সালে খুলনা থেকে যশোর হয়ে বেনাপোল ও কলকাতার সংযোগ রক্ষাকারী রেলপথের সূত্রপাত ঘটে। পদ্মা সেতু চালুর পর এই লাইনের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর-বেনাপোল রুটে দেশের অন্যতম আধুনিক ও দ্রুতগতির আন্তঃনগর ট্রেনসহ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ট্রেন ও ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নিয়মিত চলাচল করছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রবেশদ্বার যশোর স্টেশনের এই মরচে ধরা ট্র্যাক যাত্রীদের প্রতিনিয়ত এক অদৃশ্য মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

রেলওয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, রেললাইনের স্লিপারের মূল কাজ হলো ট্রেনের চাকার বিপুল ওজন সমভাবে মাটিতে বণ্টন করে দেওয়া এবং দুটি পাতের মধ্যবর্তী দূরত্ব (Gauge) সঠিক রাখা। লোহার স্লিপারগুলো যখন ভেঙে যায় বা শক্তি হারিয়ে ফেলে, তখন যেকোনো মুহূর্তে ভারী ট্রেনের কম্পন ও চাপে রেলের পাত সরে (Track Buckling) যেতে পারে। এর ফলে ঘটে যেতে পারে স্মরণকালের ভয়াবহতম ট্রেন দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে যশোর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী চাঁদ আহমেদ জানান, লোহার স্লিপার যেখানে নষ্ট হয়েছে তার পাশেই সংস্কার কাজ চলছে। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটের জরাজীর্ণ লোহার স্লিপারগুলো জরুরি ভিত্তিতে অপসারণ করে আধুনিক কনক্রিট স্লিপার দ্বারা প্রতিস্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা চলছে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও নিয়মিত রেলযাত্রীদের অভিযোগ, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এত বড় বিপ্লব ঘটলেও যশোর স্টেশনের ভেতরের এই বিপজ্জনক লাইনগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজর নেই। বড় কোনো দুর্ঘটনার পর টনক নড়ার চেয়ে এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে তারা মনে করেন। যাত্রী সাধারণের দাবি, অনতিবিলম্বে এই ‘মৃত্যুফাঁদ’ অপসারণ করে নিরাপদ রেল ভ্রমণ নিশ্চিত করা হোক।

মানবকণ্ঠ/ডিআর