ভেনেজুয়েলায় পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়ানোর আশঙ্কা
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আঘাত হেনেছে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার এই জোড়া কম্পনে পুরো দেশজুড়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, এই ভয়াবহ দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ইউএসজিএসের তথ্যমতে, স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানী কারাকাস থেকে ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে প্রথম ৭.২ মাত্রার কম্পনটি অনুভূত হয়। এর পরপরই কাছাকাছি এলাকা ইউমারের কাছে আঘাত হানে ৭.৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ানোর আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং তা ১ লাখ পার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে ৩০ শতাংশ।
ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরের হাজার হাজার আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে বহুতল ভবনে ফাটল, মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি এবং কিছু ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বেশ কিছু ভবন ধসের খবর নিশ্চিত করেছেন। ভয়াবহ এই কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত টের পাওয়া গেছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর অঞ্চলজুড়ে শক্তিশালী আফটারশক বা অনুকম্পনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং আলগা মাটি তরল হয়ে যাওয়ার (লিকুইফ্যাকশন) মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ধসে পড়া এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ শুরু হলেও, ভেনেজুয়েলা সরকার এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments