মোবাইল ইন্টারনেটের মেয়াদ শেষ হলে অব্যবহৃত ডাটা কেটে নেওয়া এবং সপ্তাহের শেষ দিকে বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে দেশের চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে সরকারের প্রায় ১৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কাছে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ বকেয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এক মাসের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনলেও মেয়াদ শেষে অব্যবহৃত ডাটা অপারেটররা নিয়ে যায়। একজন গ্রাহক যদি এক হাজার টাকার ইন্টারনেট কিনে তার মধ্যে ৪০০ বা ৫০০ টাকার ডাটা ব্যবহার করতে না পারেন, তাহলে সেই ডাটা বা অর্থ কেন কোম্পানিগুলোর কাছে চলে যাবে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিমানের টিকিটের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সপ্তাহের অন্য দিন যে টিকিট ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় পাওয়া যায়, বৃহস্পতিবার সেটির দাম অনেক ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকায় পৌঁছে যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান জয়নুল আবদিন ফারুকের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, বিমান টিকিটের মূল্য নিয়ে এর আগেও তিনি সংসদে নোটিশ দিয়েছিলেন, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। সাধারণ মানুষের ওপর এমন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
মুজিবুর রহমান আরও বলেন, শুধু টেলিযোগাযোগ খাত নয়, সাবেক অনেক সংসদ সদস্যের কাছেও টেলিফোন বিল ও বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ বকেয়া রয়েছে। এসব জাতীয় সম্পদ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব বিষয় যথাযথ নিয়মে নোটিশ আকারে উত্থাপন করা হলে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে।




Comments