কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে পাহাড় ধসের ঘটনায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
টানা ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বালুচর এলাকায় ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়কের ওপর বিপুল পরিমাণ মাটি ও গাছপালা উপড়ে পড়ায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে কাপ্তাইয়ের সাথে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রী ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির ফলে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বালুচর এলাকায় পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই প্রধান সড়কটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা রাস্তা থেকে মাটি ও উপড়ে পড়া গাছপালা সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উদ্ধার কাজে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, পাহাড় ধসের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। তবে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এবং পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাবে মাটি সরানোর কাজে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে সড়কটি বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সরোয়ার হোসেন জানান, ভারী বর্ষণে এলাকাটি বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরাও উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছেন।
প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে, বৃষ্টি থামলে এবং দ্রুত মাটি অপসারণ করা সম্ভব হলে বিকেলের মধ্যেই সড়কটি পুনরায় যান চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে। তবে পাহাড়ের মাটি নরম থাকায় ওই এলাকায় চলাচলকারী যানবাহন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments