Image description

ভুয়া বিল ভাউচার ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ শফিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. লুৎফর রহমান আকন্দকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের (আর্থিক ও প্রশাসনিক) দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) থেকে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী।

বরখাস্ত হওয়া আহমেদ শফিক জেলা স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি এই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

গভর্নিং বডির বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত গভর্নিং বডির বিশেষ সভায় আহমেদ শফিককে সাময়িক বরখাস্ত করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আহমেদ শফিকের বিরুদ্ধে ভুয়া ভাউচার তৈরি ও শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ময়মনসিংহের সাবেক অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তারকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও ভুয়া বিলের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের প্রমাণ পায়। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (অডিট) কমিটির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিনি ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা নগদ হাতে রেখেছিলেন, যার কোনো বৈধ হিসাব পাওয়া যায়নি। এছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি বছরের পর বছর আর্থিক অনিয়ম চালিয়ে আসছিলেন।

গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী বলেন, "সুনির্দিষ্ট আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ায় অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তে যদি আরও অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আহমেদ শফিক দাবি করেছেন, "প্রতিহিংসামূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির সব অভিযোগ বানোয়াট ও মিথ্যা।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর