ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়াতে রুশ হামলা নতুন ও ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে। সম্মুখ সমররেখা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহরটিতে এখন দিন-রাত চলছে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা ও অত্যাধুনিক ড্রোনের গর্জন। স্কুল, সরকারি অফিস, গণপরিবহন থেকে শুরু করে আবাসিক ভবন—কিছুই বাদ যাচ্ছে না এই ধ্বংসলীলা থেকে।
শহরের বাসিন্দা আন্না হলোভচেঙ্কো জানান, ভোরবেলা গ্লাইড বোমার বিস্ফোরণে ঘুম ভাঙা এবং এরপর শাহেদ ড্রোনের হামলা এখন জাপোরিঝঝিয়ার স্বাভাবিক চিত্র। ড্রোনের আঘাতে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়াটা নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
জাপোরিঝঝিয়ার ভারপ্রাপ্ত মেয়র রেজিনা খারচেঙ্কো জানান, শত্রুপক্ষ এখন সুনির্দিষ্টভাবে বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সিটি কাউন্সিলকে এখন ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে বসে জরুরি বৈঠক করতে হচ্ছে। শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্কুল ও হাসপাতালের জানালায় বিস্ফোরণ-প্রতিরোধী সুরক্ষা ফিল্ম এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন প্রতিরোধী জাল বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান হামলার পেছনে রয়েছে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার। লন্ডনভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক স্যাম ক্র্যানি-ইভানস জানান, রুশ বাহিনী এখন ‘মাদারশিপ’ ড্রোন ব্যবহার করছে। এই বড় ড্রোনগুলো দূরপাল্লা থেকে অনেকগুলো ছোট এফপিভি (ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ) ড্রোন বহন করে নিয়ে আসে এবং লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছে সেগুলো ছেড়ে দেয়। এছাড়া ‘মেশ নেটওয়ার্কিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ড্রোন অন্যটির সাথে সংকেত বিনিময় করতে পারে, যা ইউক্রেনীয় বাহিনীর ইলেকট্রনিক জ্যামিং এড়াতে সাহায্য করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত জুন মাসের শেষ এক সপ্তাহেই জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে ৮৮৪টি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এত আতঙ্কের মধ্যেও কয়েক লাখ মানুষ এখনো শহরটি ছেড়ে যাননি। তাদের দাবি, বিজয় না আসা পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাবেন তারা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments