কক্সবাজারে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় এখনো দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন লক্ষাধিক মানুষ। বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে থাকায় অনেক পরিবার খাবার সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব ও আশ্রয়হীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
রোববার চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের শাকের মোহাম্মদচর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, “পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। কিছুই খেতে পারছি না। চারদিকে এত পানি যে চুলায় আগুন জ্বালিয়ে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, অনেকের ঘরবাড়িও ভেঙে গেছে।”
শুধু কাকারা নয়, চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি, রামু ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো প্লাবিত। এসব অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে রয়েছে। হাজারো ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের বাসিন্দা সাফুরা খাতুন জানান, টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে তাঁর মাটির ঘরটি ভেঙে গেছে। এক সপ্তাহ ধরে রান্না করতে পারছেন না। প্রতিবেশীদের সহায়তায় কয়েক বেলা খাবার পেলেও এখনো সরকারি ত্রাণ পাননি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পানিবন্দি মানুষের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। তারা দ্রুত দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি ও মাতামুহুরি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি ও রামুসহ জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৬৯টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার ৯ উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪৩ হাজার ২১০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, জুলাই মাসে যেখানে গড়ে ৯২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, সেখানে গত সাত দিনেই ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে শনিবার থেকে বৃষ্টি কমে আসায় অনেক এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৩০ লাখ টাকা, ৪৫০ মেট্রিক টন চাল এবং শুকনো খাবার বরাদ্দ দিয়েছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে, শনিবার রাতে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে রোজিনা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চকরিয়া ও পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে বন্যা, পাহাড়ধস ও সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।




Comments