ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’ পালিত হলেও, আলোচনা সভা শেষে কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে অবহেলা ও অসম্মানের অভিযোগ ওঠে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদের ৫০০ আসনবিশিষ্ট কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা ও বাইবেল পাঠ করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাফিয়া সুলতানা রোজী, জুলাই শহিদ আবু কাউসার বিজয়ের বাবা সাইদুল ফরায়েজী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অমলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মো. সাকেরউল্লাহ, বিএনপি নেত্রী হোসনে আরা নিলুসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে হালুয়াঘাটের তিন জুলাই শহিদের পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জুলাই যোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সালেকিন অভিযোগ করে বলেন, একজন বক্তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। তাঁর দাবি, বিএনপি নেত্রী হোসনে আরা নিলু বক্তব্য দেওয়ার সময় রংপুরের জুলাই শহিদ আবু সাঈদ সম্পর্কে অবগত নন, এমন মন্তব্য করেন। সালেকিনের ভাষ্য, এ ধরনের মন্তব্য অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রস্তুতির ঘাটতি ও জুলাইয়ের চেতনার প্রতি যথাযথ সংবেদনশীলতার অভাবের পরিচয় বহন করে, যা উপস্থিত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আরেক জুলাই যোদ্ধা শিমুল মিয়া অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানটিতে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁর দাবি, একজন শহিদ পরিবারের সদস্যকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও অন্য দুই শহিদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের জন্য পৃথক বা সম্মানজনক আসনের ব্যবস্থা ছিল না। এছাড়া তাঁদের হাতে কাগজের ঠোঙায় একটি করে মিষ্টির প্যাকেট দেওয়া হলেও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাপ-পিরিচে আলাদাভাবে আপ্যায়ন করা হয়। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী এবং শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন বলেও জানা যায়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মানবকন্ঠ/এসএস




Comments