রাজধানীর পল্লবী থানায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী তরুণীর মামা ওবায়দুর রহমান। অভিযোগে বলা হয়েছে, অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং একটি ভিডিও ফাঁসের সন্দেহকে কেন্দ্র করে তার ওপর হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত মামলায় গ্রেপ্তার আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত মামলার তদন্ত শেষ করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকায় তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে এমপির বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় এমপির সঙ্গে বাদীর ভাগ্নির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর রহমান পরিবারকে অবহিত করেন এবং ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান। এরপর থেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি কিছু আপত্তিকর ভিডিও সংগ্রহ করে একটি চক্র এমপিকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। এতে এমপির সন্দেহ হয়, ওবায়দুর রহমানই গোপনে ভিডিও ধারণ করে সেগুলো গণমাধ্যম ও ওই চক্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এই সন্দেহ থেকেই গত ১৪ জুলাই তার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন আমিনুর রহমান কৌশলে তাকে একটি কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিদের সঙ্গে মিলে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার মা ও ছোট বোন এগিয়ে এসে চিৎকার করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় ওবায়দুর রহমান কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার পরও আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ মামলার বাদীর এজাহারে উল্লিখিত দাবি। মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ্যে জানা যায়নি।
Comments