Image description

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে উপেক্ষা করে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নিকোটিন পাউচ (তামাকমুক্ত ছোট থলি) দেশের বাজারে নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তামাক কোম্পানি। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) নিকোটিন পাউচের মান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। 

জানা যায়, ইতোমধ্যে ট্যোবাকো এন্ড ট্যোবাকো প্রোডাক্ট টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংস্থাটি এটি করছে। এই কমিটিতে সরকারের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) এবং তামাক বিরোধী সংস্থাগুলোর কোন প্রতিনিধিত্ব নেই। এনটিসিসি প্রতিনিধি না থাকলেও এই কমিটিতে তামাক কোম্পানির প্রতিনিধি রয়েছে। এনটিসিসি ও তামাক বিরোধী সংস্থাগুলোর কোনো প্রতিনিধি না থাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রণীত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এর আর্টিক্যাল ৫.৩ লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি-টোবাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)।
 
গত মঙ্গলবার তামাকবিরোধী এই সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিকোটিন পাউচ নামের এই পণ্যটি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

বিএসটিআইর উপ-পরিচালক এনামুল হক মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের কাজ হচ্ছে পণ্যের মান প্রণয়ন করা। কেউ কোনো পণ্যের মান প্রণয়নের জন্য আমাদের কাছে আবেদন করলে আমরা তা করে দিয়ে থাকি। নিকোটিন পাউচের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে একটি কোম্পানির কাছ থেকে প্রস্তাবনা পেয়েছি। পরে তা, ট্যোবাকো এন্ড ট্যোবাকো প্রোডাক্ট টেকনিক্যাল কমিটির কাছে পাঠাই। কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে বিভিন্ন দেশে নিকোটিন পাউচের মান কেমন তার আলোকে মান প্রণয়নে কাজ করছি। তিনি বলেন, আমাদের কাজ মান প্রণয়ন। পণ্য নিষিদ্ধ করা মন্ত্রণালয়ের কাজ। পণ্য নিষিদ্ধ আমাদের কাজ নয়। কেউ কোনো পণ্য নিষিদ্ধ চাইলে, শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন। 

জানা গেছে, বিএসটিআই যে শুধু নিকোটিন পাউচের মান নির্ধারণে কাজ করছে তা নয়, ইতোমধ্যে তামাকজাত ১৮ থেকে ২০টি পণ্যের মান নির্ধারণ করেছে। আরও অনেক পণ্য রয়েছে যেগুলোর মান প্রণয়নে কাজ করছে। কিন্তু সেইসব পণ্যে বিএসটিআইর কোনো লোগোর ব্যবহার নেই।

নিকোটিন পাউচ হলো- তামাকমুক্ত ছোট থলি, যা নিকোটিন, ফ্লেভার এবং উদ্ভিজ্জ ফাইবার দিয়ে তৈরি। এটি কোনো ধোঁয়া বা থুতু ফেলা ছাড়া মাড়ি ও ঠোঁটের মাঝে রেখে ব্যবহার করতে হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য নিকোটিন পাউচ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তামাক কোম্পানি নিকোটিন পাউচকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বলে দাবি করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, নিকোটিন পাউচে তামাকপাতা না থাকলেও এতে উচ্চমাত্রার নিকোটিন থাকে, যা তীব্র আসক্তি সৃষ্টি করে এবং শিশু-কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করাসহ হূদরোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী এসব পণ্যের সবচেয়ে বড় গ্রাহক হয়ে উঠছে কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়াসহ কমপক্ষে ১৬টি দেশ তাদের জনস্বাস্থ্য ও তরুণদের মাঝে আসক্তি রোধে নিকোটিন পাউচ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।

প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এটি নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তা বিবেচনা করা হয়নি। এখন পণ্যটি বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। অথচ, সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিকোটিন পাউচের জাতীয় মান প্রণয়নের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সরাসরি পরিপন্থী বলে প্রজ্ঞা-আত্মা মনে করে।