পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলার কাবাল থানার বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রোববার (৩ আগস্ট) কাবাল থানার প্রধান ফটকের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জেলার পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) মুহাম্মদ ওমর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে জানান, নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আহতদের মধ্যে নয়জন বেসামরিক নাগরিক এবং ২৫ জন গুরুতর আহত অবস্থায় সাইদু শরিফ টিচিং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মালাকান্দ অঞ্চলের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ ফিদা হুসাইন জানান, এক আত্মঘাতী হামলাকারী কাবাল থানায় প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। এরপর হামলাকারী থানার প্রধান ফটকের সামনেই বিস্ফোরণ ঘটায়।
তিনি বলেন, থানার আশপাশে পুলিশ লাইনস ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বিস্ফোরণে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে স্থানীয় যুবকদের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিও চলছিল। তবে বিক্ষোভস্থলটি বিস্ফোরণের স্থান থেকে নিরাপদ দূরত্বে ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খাইবার পাখতুনখোয়ার রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমদ ফাইজী জানান, নিহতদের মরদেহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও মর্গে নেওয়া হয়েছে। আহতদের উদ্ধার ও হাসপাতালে পাঠাতে ১৩টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ৪৫ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সোয়াতজুড়ে জরুরি অবস্থা
হামলার পরপরই সোয়াত জেলার ডেপুটি কমিশনার পুরো জেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। জেলা প্রশাসনের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সব সহকারী কমিশনার, রেসকিউ ১১২২, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে জেলার সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতালকে ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, প্যারামেডিক, অ্যাম্বুলেন্সকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যারা ছুটিতে রয়েছেন, তাদের অবিলম্বে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ওষুধ, রক্ত, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে।
সূত্র: দ্যা এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
মানবকণ্ঠ/এমআর




Comments