Image description

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার গত ৫২ বছরের ইতিহাসে দায়িত্ব পালন করা তিন সভাপতিই বিভিন্ন সময়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো থেকে শুরু করে সাবেক দুই সভাপতি জোয়াও হাভেলাঞ্জ ও সেপ ব্লাটার—সবার বিরুদ্ধেই ক্ষমতার ব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও বিতর্ক থামেনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। ২০২৭-২০৩১ মেয়াদে তার পুনর্নির্বাচনের পক্ষে আগে সমর্থন দেওয়া কয়েকটি ফেডারেশনও পরে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।

এর আগে ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ফিফার সভাপতি ছিলেন ব্রাজিলের জোয়াও হাভেলাঞ্জ। তার আমলে বিশ্বকাপের পরিসর, সদস্য ফেডারেশনের সংখ্যা এবং ফিফার বাণিজ্যিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে পরবর্তীতে ফিফার সাবেক বিপণন অংশীদার ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্ট অ্যান্ড লেইজার (আইএসএল)-এর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তিনি বিতর্কে জড়ান। ২০১৩ সালে ফিফার নৈতিকতা কমিটির প্রতিবেদনে তার কর্মকাণ্ডকে গুরুতর নৈতিক লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

হাভেলাঞ্জের উত্তরসূরি সেপ ব্লাটার ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফার নেতৃত্ব দেন। তার সময়েও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের ভিত্তিতে ফিফার কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হওয়ার পর সংকট আরও গভীর হয়। একই বছর মিশেল প্লাতিনিকে ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ দেওয়ার ঘটনায় ব্লাটার ও প্লাতিনি দুজনই শাস্তির মুখে পড়েন। প্রথমে আট বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও পরে তা কমিয়ে আনা হয়।

২০১৬ সালে ব্লাটার-পরবর্তী সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। তবে এক দশক না পেরোতেই তার প্রশাসনও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ক্ষমতার ব্যবহারের প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়েছে।

সব মিলিয়ে, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে হাভেলাঞ্জ, ব্লাটার ও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে ফিফা আর্থিকভাবে শক্তিশালী হলেও সংস্থাটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি কাটেনি।