জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জর্ডান। পবিত্র স্থানটির ঐতিহাসিক ‘স্থিতাবস্থা’ পরিবর্তনের আশঙ্কায় আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে দেশটি। জর্ডানের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপ বড় ধরনের ধর্মীয় সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
বুধবারের বৈঠকে আরব লীগের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন। বৈঠকের আয়োজন করছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি।
জর্ডানের উদ্বেগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদি উগ্রপন্থিদের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনা। গত ২৩ জুলাই ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের নেতৃত্বে প্রায় দুই হাজার ইসরাইলি ওই প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। জর্ডানের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে আল-আকসার ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থার অন্যতম গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এছাড়া ‘টেম্পল মাউন্ট’ এলাকায় বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনের উদ্যোগ এবং আগামী সেপ্টেম্বরে ইহুদি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আম্মান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেন, আল-আকসার বিদ্যমান স্থিতাবস্থায় হস্তক্ষেপ করা হলে তা শুধু ফিলিস্তিন বা জর্ডান নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
জর্ডান দীর্ঘদিন ধরে আল-আকসা প্রাঙ্গণের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটি একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক উচ্ছেদ বা জোরপূর্বক স্থানান্তরের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি জর্ডানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে পারেন, যা দেশটির অর্থনীতি, রাজনীতি ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্যের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছে সরকার।
এদিকে জর্ডানের অভিযোগ, গাজা যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনার জেরে ইসরাইল দেশটির জন্য পানি সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। পাশাপাশি আল-আকসা ইস্যু ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে জর্ডানে ইসরাইলবিরোধী জনমত আরও জোরালো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির রাজনৈতিক নেতারা।
Comments