Image description

দেশে আর যেন কোনোদিন স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেন সবসময় অক্ষুণ্ন থাকে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্স অ্যান্ড লিবারেশন ডে’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি ‘জনতার যুদ্ধ’। এটি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের একক যুদ্ধ ছিল না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার পর তৎকালীন শাসকরা চাননি সাধারণ মানুষ যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র জানুক। তাই যুদ্ধের অনেক কাহিনী আজও অজানা রয়ে গেছে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে কাউকে বাড়তি কৃতিত্ব দেয়ার প্রয়োজন নেই, বরং ইতিহাসের সঠিক ও প্রকৃত চিত্রটি লিখিত হওয়া প্রয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ না করলে আজও বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, পাকিস্তান থেকে যেত। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময়কার প্রধান নেতা এবং তার পক্ষেই মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাঙালি বীর সৈনিক ও তরুণ যোদ্ধারা সেদিন যে অসীম সাহস ও দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছেন, তার ফলেই দেশ স্বাধীন হয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শেখ মুজিবুর রহমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলার চেষ্টার কারণে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। 

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা যদি তখন বিদ্রোহ না করতাম এবং রাজনৈতিক সমঝোতা হতো, তবে শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হতেন; কিন্তু আমাদের মতো বিদ্রোহকারীদের অবস্থা কী হতো?”

বিগত সময়ের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে কারণ নির্বাচনের নামে দেশে প্রহসন চালানো হয়েছিল। মানুষ ‘আয়নাঘর’-এর মতো ভয়ঙ্কর অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। 

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করা হয়েছিল, রাজনৈতিক নেতাদের লোভ-লালসার কারণে ৫০ বছরেও সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।

পরিশেষে তিনি দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এই অর্জিত গণতন্ত্রকে ধ্বংস না করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরশাসকের সৃষ্টি না হয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর