Image description

গোপনে বিয়ের পর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের খবর প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই সামনে এসেছে তাদের কথিত প্রাক-বিবাহ চুক্তি বা প্রেনআপের নানা তথ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি, বিচ্ছেদ হলে দুজনের সম্পদ ও আর্থিক নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা আগেই আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছেন এই তারকা দম্পতি।

স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম মার্কার প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জর্জিনার জন্য নির্ধারিত আজীবন ভাতা। সম্পর্ক ভেঙে গেলে স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন এই মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ইউরো করে পাবেন বলে দাবি করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার কাছাকাছি, বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী অঙ্কটি কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

শুধু মাসিক ভাতাই নয়, চুক্তিতে সম্পত্তির বিষয়টিও নাকি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রিদের অভিজাত লা ফিনকা আবাসিক এলাকায় রোনালদো-জর্জিনার পরিবারের ব্যবহৃত বহুমূল্য বাড়িটি বিচ্ছেদ হলে জর্জিনার মালিকানায় চলে যাবে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রোনালদোর বিপুল সম্পদ বিবেচনায় এমন চুক্তি খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে পর্তুগিজ তারকার মোট সম্পদের পরিমাণ ১২০ কোটি ডলারের বেশি বলে অনুমান করা হয়েছে। ফুটবল থেকে আয়, বিজ্ঞাপন, ব্যবসা, ব্র্যান্ড ও বিভিন্ন বিনিয়োগ মিলিয়ে তার সম্পদের পরিধি অনেক বিস্তৃত।

তবে কথিত এই প্রেনআপের উদ্দেশ্য শুধু রোনালদোর সম্পদ রক্ষা নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং দুজনের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং বিচ্ছেদের মতো পরিস্থিতিতে দীর্ঘ আইনি জটিলতা এড়ানোই ছিল চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য।

মার্কা বলছে, তাদের প্রথম কন্যাসন্তানের জন্মের পরই এ ধরনের আইনি ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে নয়, বরং ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে সন্তানদের মানসিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পারিবারিক নিরাপত্তা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়; সেই ভাবনা থেকেই চুক্তির কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

জর্জিনার নিজেরও রয়েছে বিশাল সাম্রাজ্য

রোনালদোর জীবনসঙ্গী হিসেবে পরিচিত হলেও জর্জিনা নিজেও এখন স্বতন্ত্র এক ব্র্যান্ড। মডেলিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং তার জীবনভিত্তিক রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে বড় পরিসরে আয় করছেন তিনি। ফলে কথিত প্রেনআপে তাকে শুধু রোনালদোর সম্পদের সুবিধাভোগী হিসেবে নয়, বরং পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রোনালদোর মতো বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদের ক্ষেত্রে সম্পদ ব্যবস্থাপনা নতুন কিছু নয়। আলাদা সম্পদ, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে নিজের বিপুল সাম্রাজ্য সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি জর্জিনা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎও নিশ্চিত করতে চেয়েছেন তিনি, এমনটাই উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রেনআপের এই তথ্যগুলো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করেছে মার্কা। রোনালদো বা জর্জিনা নিজেরা চুক্তির শর্তগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেননি। ফলে মাসিক ১ লাখ ইউরো ভাতা কিংবা লা ফিনকার বাড়ির মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়গুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, বরং প্রতিবেদনে প্রকাশিত দাবি হিসেবে দেখা উচিত।

এমআর