ভারতের জেড বা জেন-জি প্রজন্মকে গরুর বন্ধু বানাতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিজেপি সরকার। গরু সংরক্ষণ ও এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে এই উদ্যোগ বলে জানা যায়। উত্তর প্রদেশের সরকার এই বিশেষ কর্মসূচির সঙ্গে জেড বা জেন-জি প্রজন্মকে যুক্ত করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গ্রামীণ অর্থনীতি, প্রাকৃতিক কৃষি, নারীর ক্ষমতায়ন, সবুজ জ্বালানি এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে গরু সংরক্ষণকে যুক্ত করে একটি টেকসই স্বনির্ভরতার মডেল গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন।
সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উত্তর প্রদেশজুড়ে গরু সংরক্ষণ কার্যক্রমে তরুণদের সম্পৃক্ত করার এই প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। গ্রামপর্যায়ে প্রচারের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে গরুর সেবা এবং এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রথমে নির্দিষ্ট কিছু মাস্টার ট্রেনারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তারাই মাঠপর্যায়ে বাকিদের প্রশিক্ষণ দেবেন। যেসব ব্যক্তি বা তরুণ আগে থেকেই গরু সংরক্ষণ ও গো-সেবার প্রতি বিশেষভাবে আগ্রহী, তাদের এই কার্যক্রমে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
উত্তর প্রদেশ গো সেবা আয়োগের চেয়ারম্যান শ্যাম বিহারি গুপ্তের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন এই উদ্যোগের আওতায় রাজ্যের গোশালাগুলোকে কেবল রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না; বরং এগুলোকে গোবর ও গোমূত্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, প্রাকৃতিক কৃষি, বায়োগ্যাস প্ল্যান্টসহ নানা আয়বর্ধক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
গ্রামপর্যায়ের প্রচারণামূলক কার্যক্রমে শিশু ও তরুণদের দেশীয় গবাদিপশুর বিভিন্ন জাত, প্রাকৃতিক কৃষি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গরুর অপরিহার্য ভূমিকা সম্পর্কে অবগত করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে গরু সংরক্ষণের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।
উল্লেখ্য, বর্তমানে উত্তর প্রদেশজুড়ে সাড়ে সাত হাজারের বেশি গোশালা রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ১২ লাখের অধিক গবাদিপশু রয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এমআর




Comments