ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকারীদের একজন নাটালি হার্প। বিভিন্ন তথ্য ও খবর প্রিন্ট করে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের হাতে তুলে দেওয়ার কারণে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামে। বর্তমানে প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৩৫ বছর বয়সি এই নারী।
হার্পের সরকারি পদটির বার্ষিক বেতন দেড় লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
২০২০ সালে রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলনে ট্রাম্পের নজরে আসেন হার্প। ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে ‘ইটস আ ওয়ান্ডারফুল লাইফ’ সিনেমার জর্জ বেইলি চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতা আরও আগে থেকেই আলোচনায় আসে। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় নিজের ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পেছনে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের স্বাস্থ্যনীতির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
হার্পের এই বক্তব্য রক্ষণশীল গণমাধ্যম ফক্স নিউজের নজরে আসে। পরে তাকে একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ওই অনুষ্ঠান নিয়ে ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। এভাবেই ধীরে ধীরে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয়ে জায়গা করে নেন হার্প।
ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ২০২২ সালে তাঁর সঙ্গে কাজ শুরু করেন হার্প। তখন তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদবি ছিল না।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে প্রিন্টার ও ব্যাটারি হাতে দেখা যেত হার্পকে। ট্রাম্পের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য, খবর ও নথি দ্রুত প্রিন্ট করে দেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম কাজ। সেখান থেকেই তার ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ পরিচিতি।
বর্তমানে ট্রাম্পের নিয়মিত সফরসঙ্গীও হার্প। সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক সিনেটর জন ওসফ ট্রাম্পকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে হার্পের প্রসঙ্গ টানলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ট্রাম্প ও হার্পের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।
সিএনএনের এক সাংবাদিক এ বিষয়ে ট্রাম্পকে সরাসরি প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। এরপর হোয়াইট হাউসও ওই সাংবাদিক ও সিনেটর ওসফের সমালোচনা করে।
ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা হার্প ২০১২ সালে সান ডিয়াগোর পয়েন্ট লোমা নাজারিন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক এবং ২০১৫ সালে ভার্জিনিয়ার লিবার্টি ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেন। দুটি প্রতিষ্ঠানই খ্রিস্টান মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত।
ট্রাম্পের প্রতি হার্পের আনুগত্য ও ঘনিষ্ঠতার পেছনে ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময়কার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সেই সময় নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যনীতির প্রচার করেছিলেন তিনি। পরে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান হার্প।
বর্তমানে ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়মিত দেখা যায় তাকে। হাতে প্রিন্টার নিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের সেই ভূমিকাই তাকে অন্য সহকারীদের চেয়ে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
এসএস




Comments