Image description

ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার নেতৃত্ব নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান ও সাবেক একদল ফুটবলার। তাদের সাফ কথা, ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তন দরকার। ফলে প্রশাসনিক চাপের সঙ্গে এবার খেলোয়াড়দের প্রতিবাদও যোগ হওয়ায় ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বাড়ল।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার মিকায়েল সিলভেস্ত্রে। ফিফার ‘প্লেয়ার্স ভয়েস প্যানেল’-এর সদস্য সিলভেস্ত্রে বিবৃতিটির শিরোনাম দেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে!’ দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন। 

সিলভেস্ত্রের প্রকাশ করা বিবৃতিটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সমর্থন জানিয়ে পোস্টটি শেয়ার করেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার লুসি ব্রোঞ্জ, ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য এমানুয়েল পেতি এবং সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক ডেভিড জেমসসহ আরও কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক ফুটবলার।

ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফিফার সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তই মূলত ক্ষোভের কেন্দ্রে। বিশেষ করে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও মালিকানায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফুটবলারদের প্রকাশ করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের উদ্বেগ আসলে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থকের উদ্বেগেরই প্রতিফলন। ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে তারা মনে করেন, ফুটবলের মূল মূল্যবোধ থেকে সংস্থাটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের মতামত যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।

শুধু খেলোয়াড় নয়, ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সমর্থকদেরও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে আরও সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বর্তমান নেতৃত্বের হাতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় ফুটবলের স্বার্থ আর ব্যক্তিগত বা নেতৃত্বের স্বার্থের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ছিল। এবার বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়দের প্রকাশ্য অবস্থান সেই চাপকে আরও জোরালো করল। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সংগঠনের সভাপতির বিরুদ্ধে মাঠের তারকাদের এমন সরব অবস্থান তাই নতুন করে আলোচনায় এনেছে ফিফার নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিকে।
এমআর