Image description

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতেও ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানে ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বুধবার বিকেলে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি তিব্বতে ‘ব্যাপক হতাহতের’ কথা জানায়। তবে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত হতাহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।

সিসিটিভির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসির যাচাই করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিব্বতের গিরং সীমান্ত চৌকির একটি ভবনের দিকে কাদা ও পানির প্রবল স্রোত ধেয়ে আসছে। জনপ্রিয় পর্বতারোহণ ও ট্রেকিং এলাকা গিরংয়ের কয়েকটি গ্রামও আংশিকভাবে পানি ও কাদায় তলিয়ে গেছে।

চীন থেকে বিবিসির সাংবাদিক লরা বিকার জানিয়েছেন, দেশটিতে কোনো দুর্যোগের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া অনেক সময় কঠিন। কারণ দেশটির গণমাধ্যম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। তিব্বতে এই নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি। তবে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কোনো দুর্যোগ নিয়ে সরাসরি নির্দেশনা দিলে সাধারণত বোঝা যায়, পরিস্থিতি গুরুতর।

সিসিটিভির বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক অভিযান’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন শি জিনপিং। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানি কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

সিসিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে প্রবল স্রোতে গাছের ডালপালা ও বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ভেসে যেতে দেখা গেছে। একটি সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এএফপি তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

তিব্বতের পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিগাতসে এলাকার বেশ কয়েকটি সড়ক ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে এসব সড়কে চলাচল নিরাপদ নয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গিরং সীমান্ত চৌকি চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। এলাকায় প্রায় ৪ হাজার মানুষ বসবাস করেন। স্থানীয় শ্রমিকদের ভাষ্য, সেখানে বেশ কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজও চলছিল।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর হিমালয়সংলগ্ন এলাকায় তুষারধস শুরু হয়। এরপরই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

এদিকে নেপালে এই দুর্যোগে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং কয়েক শ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পর্যটন বোর্ড।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৩১ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়ছে।

সূত্র: বিবিসি ও এএফপি
 

এসএস