Image description

ফিফার সঙ্গে বিরোধ কিছুটা কমিয়ে বয়কটের হুমকি থেকে সরে আসার পথে হাঁটছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টের আয়োজক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা আপাতত আর এগোচ্ছে না—এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পর অবস্থান নরম করেছে উয়েফা।

বৃহস্পতিবার মোনাকোয় উয়েফার নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানেই বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় এক মাস আগে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টগুলোর আয়োজক স্বত্ব বিক্রির একটি পরিকল্পনা সামনে আনেন। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস’ নামে ওই পরিকল্পনা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই আশঙ্কা করেন, এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রচলিত কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

এরপর কঠোর অবস্থান নেয় উয়েফা। পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাতিল না হলে ইউরোপের দেশগুলোকে ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের আহ্বান জানানোর হুমকি দেয় সংস্থাটি।

চাপের মুখে ইনফান্তিনো পরে জানান, প্রস্তাবটি আপাতত আর আলোচনায় নেই। তিনি পরিকল্পনাটি নিয়ে কিছু ‘ভুলের’ কথাও স্বীকার করেন। তবে এতেও সন্তুষ্ট হয়নি উয়েফা। ভবিষ্যতে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে না—এমন বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা দাবি করে তারা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন সেই নিশ্চয়তা পাওয়ার পর বয়কটের হুমকি প্রত্যাহারের পথ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আগামী মাসে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে ইউরোপের দলগুলোর অংশগ্রহণও নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, স্পেন ও স্বাগতিক পোল্যান্ডসহ ছয়টি ইউরোপীয় দলের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

উয়েফার অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, এটি পিছু হটা নয়। তরুণ খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করাই এর অন্যতম কারণ। তবে ফিফার নেতৃত্বে সংস্কারের দাবি থেকে সরে আসছে না উয়েফা। নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থান রয়েছে তাদের।

এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো। উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন ইতিমধ্যে তাঁকে পদ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড় করানোর সম্ভাবনাও উয়েফার পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ইনফান্তিনোর সমালোচনায় সাবেক কয়েকজন ফুটবলারও সোচ্চার হয়েছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার মিকায়েল সিলভেস্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে।’ তাঁর অবস্থানকে সমর্থন করেছেন লুসি ব্রোঞ্জ, ইমানুয়েল পেতি ও ডেভিড জেমসের মতো সাবেক ও বর্তমান ফুটবলাররা।

অন্যদিকে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছেন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের একটি অংশ। ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু, ইতালির সাবেক স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ান ভিয়েরি, পর্তুগালের সাবেক অধিনায়ক পেপে এবং আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো ফিফা সভাপতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, গত এক দশকে খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ফিফা।

এসএস