সন্তান বিক্রি করে আইফোন কেনার অভিযোগ, বাবা আটক
উদ্ধার দেড় বছরের শিশু
পটুয়াখালীর দশমিনায় দেড় বছরের শিশুসন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আইফোন কেনার অভিযোগ উঠেছে বাবা মো. মারুফ মুন্সির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ। পরে অভিযুক্ত বাবাকেও আটক করা হয়েছে।
আটক মো. মারুফ মুন্সি উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় এক মাস আগে মারুফের স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর গত শনিবার সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমকে ছেলে মুসাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।
সন্ধ্যার পরও বাবা-ছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিবারের দাবি, এ সময় মারুফ শিশুটিকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন।
স্থানীয়দের দাবি, শিশুটিকে বিক্রির টাকা নিয়ে মারুফ ঢাকায় চলে যান। সেখানে পুরোনো মোবাইল ফোন পরিবর্তন করে নতুন একটি আইফোন কেনেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হয় পুলিশ। রবিবার রাত ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দাদা মফিজ মুন্সি ও দাদি মাহফুজা বেগমের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছেন—এমন খবর পেয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তকে আটক করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একটি দল কাজ করেছে এবং তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিশুটিকে বিক্রি এবং সেই টাকা দিয়ে আইফোন কেনার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এসএ




Comments