ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে আপাতত সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার অবস্থায় নেই বলে রিয়াদকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে হুথিরা। এতে সৌদি আরব নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগে পড়েছে।
ট্রাম্প সরাসরি সামরিক সহায়তার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া না দিলেও যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ হলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবসহ দেশগুলোকেই নেতৃত্ব দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে মার্কিন সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রিয়াদ সফর করেছে। সফরে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হুথি ইস্যু ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে ইরান পাল্টা সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইছে। তবে সৌদি আরব এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রও আপাতত হুথিদের ওপর সরাসরি হামলার পরিকল্পনা করছে না।
সৌদি আরব ও হুথিদের সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সময়। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।
সূত্র: এবিসি নিউজ
এনএ




Comments