ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে জো রুটরা। তবে বিশ্রামের জন্য খুব একটা সময় পাচ্ছে না তারা। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড।
যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের হোয়াইট-বল দলগুলো সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্ম প্রদর্শন করেছে। দলটি তাদের সর্বশেষ ১৯টি সম্পন্ন হওয়া টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে ১৭টিতেই জয়লাভ করেছে। চলতি বছরের তারা জুলাইয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছিল।
এছাড়া ২০২৬ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটেও ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কা ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে।সম্প্রীতি দেশটির সাবেক ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেনকে ক্রিকেট কৌশল এবং দলের টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে স্কোয়াডের জন্য ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগ এবং কাজের পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চেয়েছেন মাইকেল ভন। ডেইলি মেইলকে তিনি বলেন, ব্যাটিং, ম্যাচ জেতা এবং সঠিক মুহূর্তে সঠিক তীব্রতায় খেলার বিষয়ে তার যে জ্ঞান, ইংল্যান্ডের হয়ে আমার খেলার সময়ে তার চেয়ে ভালো আর কেউ ছিল না। সে দলে সেই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা যোগ করবে।
তিনি আরও বলেন, আমার কাছে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, নেপথ্যের কর্মীদের (ব্যাকরুম টিম) বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের মধ্যে বিষয়টি কীভাবে কাজ করে। ইংল্যান্ড অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিখ্যাত এক ব্যাকরুম টিম বেছে নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে এমন কিছু ব্যাকরুম টিম বা কোচিং স্টাফ রয়েছে যারা খুব ভালো কাজ করছে অথচ আমরা তাদের নামও জানি না, তারা নীরবে-নিভৃতে নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে।
পিটারসেন আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের সাথে কাজ করার এবং ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজের সময় ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের সহায়তা করার সংক্ষিপ্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। ২০১৮ সালে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের পর এই নতুন মেন্টর বা পরামর্শকের দায়িত্ব নেওয়ার আগে পিটারসেন মূলত ব্রডকাস্টার বা ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেছেন। ইংল্যান্ডের সেট-আপে তার ফিরে আসাটা সাদা বলের ক্রিকেটে প্রতিভা বিকাশ এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে দলের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ভন বলেন, না, আমি খুশি। সে ইংলিশ ক্রিকেটে ফিরেছে। কারণ ২০১৪ সালে আমার সবসময়ই মনে হয়েছে যে ‘কেভ’-এর (পিটারসেনের ডাকনাম) সাথে অবিচার করা হয়েছিল। কেভ নিজেই অনেক সমস্যার সৃষ্টি করেছিল ঠিকই, কিন্তু এমন আরও অনেকে আছে যারা সমানভাবে বোকামিপূর্ণ কাজ করেও ইংলিশ ক্রিকেটে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাকে সাদা বলের ক্রিকেটে যুক্ত করায় আমি আসলে অবাক হয়েছি। আমি ভেবেছিলাম টেস্ট দল হয়তো তার সাথে যোগাযোগ করবে। গত এক বছরে সাদা বলের দলটি বেশ ভালো করছে; টি-টোয়েন্টিতে তারা বিশ্বের এক নম্বর দল এবং ৫০ ওভারের দলটিও সঠিক পথে ফিরেছে। আমার ধারণা, সাদা বলের দলে থাকা যেসব খেলোয়াড় টেস্ট ক্রিকেটও খেলে, তাদের ওপর সে প্রভাব ফেলবে।
ভন মনে করেন, আগামী বছরের অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারেন বোলার অলি রবিনসন। এই গ্রীষ্মে খেলা চারটি টেস্টে ১০-এর কম গড়ে তিনি ২৮টি উইকেট শিকার করেছেন। তিনি বলেন, অলি রবিনসনের জন্য বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক। সে কেবল দৌড়ে এসে সহজাতভাবেই সঠিক লেংথে বল ফেলে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কিছুটা উষ্ণ আবহাওয়ায়, যখন সে তার দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ স্পেল করবে এবং পরদিন ফিরে এসে কুকাবুরা বলে বল করবে তখন তার পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা নিয়ে আমাদের মনে কিছুটা সংশয় রয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাজ্যের মাটিতে আমি তার মুখোমুখি হতে চাইব না। আর অস্ট্রেলিয়ানরা জানে, আগামী গ্রীষ্মে তাকে সামলানোর জন্য তাদের মূলত দুটি পথের একটি বেছে নিতে হবে। এমন কাউকে দিয়ে তাকে টেকনিক্যালি বা কৌশলের মাধ্যমে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে হবে, অথবা ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে হবে। যেমন ট্রাভিস হেডকে দিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করিয়ে তাকে তার স্বাভাবিক লেংথ থেকে সরিয়ে আনা। তারা কোন পথটি বেছে নেয়, তা দেখার জন্য আমি বেশ আগ্রহী।
এমআর




Comments