Image description

সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে নরসিংদীর রায়পুরার সৌরভ ইসলাম (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি আরবে সৌরভের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি ফোন করে তার স্বজনদের মৃত্যুর খবর জানান।

নিহত সৌরভ ইসলাম রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম ও রেনু বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি জেদ্দার আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে টি-বয় হিসেবে কাজ করতেন।

স্বজনদের ভাষ্য, সৌরভ প্রায় পাঁচ বছর ধরে জেদ্দায় চাকরি করছিলেন। এক বছর আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে ফিরে যান। মঙ্গলবার ভোরে তিনি যে বাসায় থাকতেন, সেটির ছাদে যান। এ সময় ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জেদ্দার দিকে আসার খবর ও মোবাইলে অ্যালার্মের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে পায়ে তার বা রশি পেঁচিয়ে তিনি সিঁড়িতে পড়ে যান। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে সকালে তার সঙ্গে থাকা লোকজন ঘুম থেকে উঠে সৌরভকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সৌদি পুলিশের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

সৌরভের স্বজন তৌহিদুল ও কামাল মিয়া বলেন, সৌরভ অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্র আসার খবরে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা চান তারা।

বুধবার সকালে মুছাপুর গ্রামে সৌরভের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার মা রেনু বেগম। নিহতের মা রেনু বেগম বলেন, ‘সৌরভ আমার একমাত্র ছেলে ছিল। ফোনে প্রায়ই আমার খোঁজ নিত। এখন কে আমার খবর নেবে? আমি শেষবারের মতো ছেলের মুখটা দেখতে চাই। নিজের হাতে ছেলেকে মাটি দিতে চাই। সরকারের কাছে আবেদন, দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ দেশে এনে দিন।’

সৌরভের বাবা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি আরবে সৌরভের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি ফোন করে তার মৃত্যুর কথা জানান। সে ছিল আমার একমাত্র ছেলে। এখন ছেলের মুখটা দেখে নিজ হাতে মাটি দিতে চাই। সরকারের কাছে আবেদন, দ্রুত আমার ছেলেকে দেশে এনে দিন।’

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
এমআর