জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ৫ থেকে ২০ টাকা, আবার দূরপাল্লার বাসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে যাত্রী ও পরিবহণকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার পাশাপাশি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
রোববার রাতে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। নতুন দাম সোমবার থেকে কার্যকর হয়। তবে তখনও বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ হয়নি। এর মধ্যেই সোমবার সকাল থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস, মিনিবাস ও লেগুনায় বাড়তি ভাড়া নেওয়া শুরু হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন রুটে ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা, ২০ টাকার ভাড়া ২৫ টাকা এবং ৩০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাইনবোর্ড-নতুনবাজার রুটের একটি এসি বাসে ১০০ টাকার পরিবর্তে ১২০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৫৫ টাকার ভাড়া নেওয়া হয়েছে ৬০ টাকা।
চট্টগ্রাম মহানগরেও একই চিত্র দেখা গেছে। নগরীর বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দূরপাল্লার বাসেও ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই পরিবহণ মালিকরা দ্রুত ভাড়া বাড়িয়ে দেন। কিন্তু তেলের দাম কমলে সে অনুযায়ী ভাড়া কমানো হয় না। আবার সরকার নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতিও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ভাড়া সমন্বয়ের প্রয়োজন হলেও কতটা ভাড়া বাড়ানো যৌক্তিক, তার স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে সোমবার বিআরটিএর বৈঠকে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে মঙ্গলবার সরকার দূরপাল্লা ও মহানগরের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার আগেই বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনায় পরিবহণ খাতে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বাড়তি চাপ সরাসরি সাধারণ যাত্রীদের ওপর পড়ছে।
এসএস




Comments