Image description

নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘ। নদীর তীরে দুলছে সাদা কাশফুল। কখনো মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে সূর্য, আবার কখনো মৃদু বাতাসে একসাথে দুলছে কাশফুলের পাপড়ি। মোংলা পৌর ভেড়িবাদ এলাকায় এমনই শরতের নান্দনিক সৌন্দর্যে সেজেছে। কাশবনের শুভ্রতা আর মোংলা নদীর বিশাল জলরাশি মিলে প্রকৃতির এক অপরূপ দৃশ্য তৈরি করেছে।
শরতের এই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন মোংলা ভেড়িবাদে নদীর তীরে ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সাথে, আবার কেউ একা প্রকৃতির কোলে কিছুটা সময় কাটাতে আসছেন। নদীর সোনালি বালিতে পড়ে থাকছে দর্শনার্থীদের পদচিহ্ন। ফুলের মাঝে ছবি তোলার আয়োজন চলছে। প্রকৃতির এই সাজ যেন ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি থেকে মানুষকে সাময়িক স্বস্তি দিচ্ছে।
বর্ষা শেষে প্রকৃতিতে শরতের আগমন স্পষ্ট। আকাশে সাদা মেঘের চলাচল, বাতাসে কোমলতা, আর মাঠে-ঘাটে কাশফুলের দোলা ঋতু পরিবর্তনের সংকেত দেয়। শরৎকে বলা হয় শুভ্রতার ঋতু। কাশফুল, স্বচ্ছ নীল আকাশ, সূর্যের কিরণ, সব মিলিয়ে বাংলার প্রকৃতিতে এর আলাদা পরিচয় রয়েছে।
মোংলা নদীর তীর, চরাঞ্চল, জলাভূমি ও অপেক্ষাকৃত শুকনো এলাকায় এখন কাশফুল দেখা যাচ্ছে। মোংলা ভেড়িবাদের কাশবন স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের জায়গায় পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই কাশবনগুলো এখন প্রতিদিন দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
কাশফুল দেখতে আসা শেখ শাহিনুর, নুসরাত জাহান তাহসিনা, রেজওয়ানা সুলতানা (জিতু), জাহিদ সরদার,শেখ রাবেয়া, তানভীর রহমান রাফি, জান্নাতুল ফেরদাউস লুবনা (তুলি) বলেন, "যান্ত্রিক নাগরিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে আমরা এখানে আসি। কাশফুলের শুভ্রতা মনকে প্রশান্ত করে। এখানকার পরিবেশও খুব ভালো। তাই পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগে।"
বাজুয়া এলাকার শেখ মান্নান তার বন্ধুদের নিয়ে কাশবন দেখতে এসেছিলেন। কাশবনের সৌন্দর্য বর্ণনা করে তিনি বলেন, "বৃষ্টি আর রোদ-ছায়ার খেলার মাঝে যখন সাদা ফুলে ভরে ওঠে কাশবন, মৃদু বাতাসে কাশবনের দোলা দেখে মন ভরে যায়। মনে হয় সৃষ্টিকর্তার এক অপূর্ব সৃষ্টি।" বাংলা সাহিত্যে কাশফুলের উপস্থিতি বহু আগে থেকেই রয়েছে।
এসএ