Image description

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকায় একটি মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুতায়িত হয়ে পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় মাহেলা খাতুন মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

দগ্ধ শিক্ষার্থীরা হলো—পঞ্চম শ্রেণির জিদনি (১৪) ও সুমাইয়া (১৩), তৃতীয় শ্রেণির আসিয়া (১২) ও আতিয়া (১২) এবং দ্বিতীয় শ্রেণির লামিয়া (১০)। তাদের মধ্যে চারজনের শরীরের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম জানান, মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী তিনতলা ভবনের ছাদে থাকা ছাদবাগানে গাছে পানি দিতে যায়। এ সময় একটি টবে থাকা আখগাছ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে বিকট শব্দ হয় এবং আগুনের ফুলকি তৈরি হয়। এতে ছাদে থাকা পাঁচ শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়।

ঘটনার পর মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মোরশেদ উল আলম খান বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাঁচজন দগ্ধ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ফতুল্লা বিসিক ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল হালিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, মাদ্রাসা ভবনের ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের লাইন গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আখগাছটি বিদ্যুতের তারে লেগে স্পার্ক তৈরি হয়। সেই স্পার্ক থেকে আগুনের সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা দগ্ধ হয়।

তিনি আরও জানান, ভবনের নিচতলায় থাকা গ্যাসের রাইজারেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুতের স্পার্কের সময় গ্যাস লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এতে নিচতলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

মাদ্রাসার মালিক আব্দুর রহমান কাসেমী দাবি করেন, ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তার থেকে ভবনটি নিরাপদ দূরত্বে রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুমতি নেওয়ার পরই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে দগ্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

এসএস