Image description

কুমিল্লায় নিখোঁজের চার দিন পর জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিলেন। তিনি যশোরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। আবদুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লায় কর্মরত। পরিবারের সঙ্গে নগরের রেইসকোর্স এলাকায় থাকতেন তাজমিন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় সড়কের পাশে একটি ধানের জমিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। কাছেই একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, সকালে সড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরের ফসলি জমিতে আইলের পাশে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল এবং মুখ মাটির দিকে চেপে রাখা ছিল।

উদ্ধারের সময় মরদেহের পরিচয় জানা যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহটি তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাজমিন বাসা থেকে বের হয়। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে সে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা জানায়। বুধবার গভীর রাতে তাজমিন বাবাকে একটি মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলে। তবে তখন তিনি ঘুমিয়ে থাকায় মেসেজটি দেখতে পারেননি। সকালে উঠে লোকেশন অনুযায়ী ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।

আবদুল আলীমের অভিযোগ, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে কুমিল্লা শহর থেকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে তাজমিনের গত চার দিনের চলাফেরার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ৪ অক্টোবর কুমিল্লা শহরে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হলেও ওই দিন তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয় সে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে তাজমিন। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তার যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই অটোরিকশা থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, ব্যাগটি তাজমিনের নয়।

সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাজমিন গত চার দিন কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, তাজমিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে মরদেহ ফসলি জমিতে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এসএস