ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও আন্দোলনের তীব্র বিরোধিতা এবং পাল্টা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। রোববার দিল্লির ঐতিহ্যবাহী মালব্য স্মৃতি ভবনে দলটির প্রথম বড় ধরনের সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাদের এই কর্মসূচির জবাবেই প্রকাশ্যে সামনে এলো নতুন এই গোষ্ঠী।
সমাবেশে লাল হিট জনতা পার্টির প্রধান অয়ন ভাটনগর বিক্ষোভকারীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “দুর্গাপূজা থেকে দীপাবলি পর্যন্ত সময়টি ভারতের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বছরের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু কনট প্লেসের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অব্যাহত আন্দোলনের নামে অচলাবস্থা তৈরি করে চরম ব্যবসায়িক ক্ষতি সাধন করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।” বক্তব্যে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বেশ কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন তিনি।
অয়ন ভাটনগর আরও বলেন, কথায় কথায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করার সংস্কৃতি দেশের মূল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, সিজেপির এই আন্দোলনের নেপথ্যে কংগ্রেস ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (AISA)-এর প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে, যাদের একমাত্র লক্ষ্য বিজেপি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতার রদবদল ঘটানো।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকারী সাংবাদিক পবন দাবি করেন, দিল্লির টানা আন্দোলনের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি রুপির বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যা দিন শেষে ১০ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া সমাবেশে বিখ্যাত কথক নৃত্যশিল্পী রিচা গুপ্ত উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
সোশ্যাল মিডিয়ার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে জাতীয়তাবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী জনগণকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিজেদের প্রথম সভা শেষ করে লাল হিট জনতা পার্টি।
ডিআর




Comments