Image description

পাকিস্তানের লাহোরে হৃদরোগে আক্রান্ত কিংবা সিঁড়ি থেকে পড়ে মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগের (পিএমএমএল) পাঞ্জাব প্রদেশের সভাপতি মুহাম্মদ সারওয়ার। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) এই ঘটনা ঘটে।

পিএমএমএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে মসজিদ যাওয়ার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সারওয়ার। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ২৪নিউজএইচডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদে যাওয়ার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণেও তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, পিএমএমএল দলটিকে মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সাঈদের প্রতিষ্ঠিত ‘জামাত-উদ-দাওয়া’র রাজনৈতিক শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অর্থায়নের অভিযোগে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হাফিজ সাঈদ ২০১৯ সাল থেকে লাহোরের কোট লাখপত কারাগারে বন্দী রয়েছেন। সারওয়ারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পিএমএমএলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তরের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (OFAC) মুহাম্মদ সারওয়ার এবং লস্কর-ই-তাইয়েবার (LeT) আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা শহীদ মাহমুদকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ (SDGT) হিসেবে কালোতালিকাভুক্ত করে।

ওএফএসি’র তৎকালীন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল

তহবিল সংগ্রহ: সারওয়ার ও মাহমুদ লস্কর-ই-তাইয়েবার জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং তা স্থানান্তরের মূল দায়িত্ব পালন করতেন। লড়াকু এই গোষ্ঠীর আর্থিক নেটওয়ার্ক দুর্বল করতেই তাঁদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা: ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে যুক্ত থাকা সারওয়ার অন্তত ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে দলটির লাহোর শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের দিকে তিনি লড়াকু সংগঠনটির বৈদেশিক বিষয়ক প্রধান হাফিজ আবদুর রহমান মাক্কির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

আর্থিক লেনদেন: আনুষ্ঠানিক পাকিস্তানি আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করেই সারওয়ার লস্কর-ই-তাইয়েবার পক্ষে অর্থ সংগ্রহ ও তা বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে দিতেন। ২০০৮ এবং ২০০৯ সালের বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়িক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তিনি লস্কর স্থাপনা পরিদর্শন এবং অনুদান সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সারওয়ারের যাবতীয় বৈশ্বিক সম্পদ জব্দ করার পাশাপাশি তাঁর চলাচলের ওপর আন্তর্জাতিক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল।

ডিআর