পর্যটন খাতের বিকাশে প্রথমবারের মতো যাত্রীবাহী ড্রোন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সেই লক্ষ্যে যাত্রীবাহী ড্রোনের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে দেশটি। আগামী ৩০ কিংবা ৩১ অক্টোবর অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ উড্ডয়ন হতে পারে। প্রাথমিকভাবে দুই যাত্রী বহনে সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করা হবে। ভবিষ্যতে চার থেকে ছয় যাত্রী বহন করতে পারে— এমন বড় আকারের ড্রোন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।
শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক দামিন্দা রামবুকওয়েলা জানান, ই-হ্যাং ব্র্যান্ডের প্রথম দুই আসনের ড্রোনটি থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা হয়েছে। এটি ইতোমধ্যে দেশটির বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম উড্ডয়ন হবে কলম্বো পোর্ট সিটি থেকে। তবে ড্রোনটির গন্তব্য কোথায় হবে, তা ২৩ অক্টোবর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর নির্ধারণ করার কথা রয়েছে।
রামবুকওয়েলা জানান, সংশ্লিষ্ট মার্কিন সনদায়ন মান অনুসারে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে শ্রীলঙ্কা। তবে অ্যাডভান্সড এয়ার মোবিলিটি ব্যবস্থার জন্য দেশীয় বিধিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উপযুক্ততা মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত সড়ক পরিবহনের পাশাপাশি স্বল্প দূরত্বে বৈদ্যুতিক আকাশযান ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করতে চায় দেশটি। তবে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফল হলেই যে নিয়মিত বাণিজ্যিক যাত্রী পরিবহন শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৮ নভেম্বর দ্বিতীয় চালানে শ্রীলঙ্কায় আরও একটি ড্রোন পৌছানোর কথা রয়েছে। আগামী বছর চার থেকে ছয় যাত্রী বহনে সক্ষম বড় আকারের আকাশযান চালুর পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরত্বের রুটে ড্রোন চলাচল করতে পারে। প্রতিটি উড্ডয়নের মধ্যে ৩০ মিনিটের ব্যবধান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বৈদ্যুতিক আকাশযান ভূমি থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট উচ্চতায় উড়বে বলে জানানো হয়েছে। উড্ডয়নের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণব্যবস্থা।
ড্রোনগুলোর উড্ডয়ন ও অবতরণ, ব্যাটারি চার্জ এবং যাত্রী ওঠানামার জন্য বিশেষ অবকাঠামো প্রয়োজন হবে। এসব স্থাপনাকে বলা হয় ‘ভার্টিপোর্ট’। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এ ধরনের নির্দিষ্ট স্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ যাত্রীবাহী ড্রোনকে শুধু পর্যটকদের পরিবহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। নগর পরিবহন, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং দুর্গম এলাকায় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : দ্য স্টার
এমআর




Comments